ভোলার তজুমদ্দিন উপজেলায় ৩১ শয্যা সরকারি হাসপাতালটিতে বেড সংকটের কারণে চরম দূর্ভোগ পোহতে হচ্ছে সেবা নিতে আসা রোগীদের। হাসপাতালটিতে চিকিৎসা সেবার মান উন্নয়ন হওয়ায় সেবা নিতে আসা রোগীদের ভীড়ে সেবা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে কর্মিদের।

প্রতিদিন বেডের তুলনায় অনেক বেশী রোগী ভর্তি থাকায় ফ্লোরে শুয়ে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে রোগীরা। ধূলা-বালি ও ফ্লোরের ঠান্ডায় রোগীরা নতুন রোগে আক্রান্ত হতে পারে বলে মনে করেন চিকিৎকসরা। হাসপাতাল সুত্রে জানা গেছে, ১৯৭৪ সালে উপজেলায় বসবাসরত ৬০ হাজার মানুষের স্বাস্থ্যসেবা প্রদান করতে যাত্রা শুরু করে তজুমদ্দিন উপজেলা ৩১ শয্যা হাসপাতলটি। এরপর থেকে জনসংখ্য বৃদ্ধির সাথে সাথে রোগীর চাপ বাড়লেও বাড়েনি হাসপাতালের বেডের সংখ্যা। গড়ে প্রতিদিন হাসপাতালটিতে ৫০ জনের বেশি রোগী ভর্তি থাকেন।

যে কারণে ৩১ শয্যার বাহিরের রোগীদের হাসপাতালের মেঝেতে বিছানা করে চিকিৎসা সেবা নিতে হয়। গতকাল শনিবার সরেজমিনে হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, হাসপাতালটিতে ৫৮জন রোগী ভর্তি রয়েছে। বেডের বাহিরে বাকি ২৭ জন রোগীকে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে হাসপাতালের মেঝেতে অতিরিক্ত বেড বিছিয়ে। কোন কোন রোগী মেঝেতে জায়গা না পেয়ে প্রবেশ পথে ও পাশের বারান্দায় শুয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন। এছাড়াও প্রতিদিন হাসপাতালের বহিঃবিভাগে ৩শত ৫০ থেকে ৪’শত জন রোগীকে স্বাস্থ্যসেবা দিচ্ছেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। বেড না পেয়ে মেঝেতে চিকিৎসারত রোগী সাহাবুদ্দিন বলেন, হাসপাতালে বেড না থাকায় আমাদের মত অনেককে ফ্লোরে শুয়ে চিকিৎসা নিতে হয়। ফ্লোরের ধূলা বালি শরীরের সাথে মিশে যায় এবং রাতে ফ্লোরের পাকা থেকে প্রচুর ঠান্ডা লাগে।

তারপরও কিছু করার নেই সুস্থ্যতার জন্য চিকিৎসা নিতে হবে। হাসপাতালে কর্মরত নার্স শারিকা বেগম বলেন, অতিরিক্ত রোগীদের চিকিৎসা দিতে আমাদের কষ্ট হয়। তবুও রোগীদের চিকিৎসাসেবা দিতে আমরা সবাই দিনরাত অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছি। হাসপাতালের আরএমও ডা. হাসান শরীফ বলেন, ৩১ শয্যা হাসপাতালের জনবল দিয়ে অতিরিক্ত রোগীদের চিকিৎসাসেবা দিতে আমরা হিমশিহ খাচ্ছি।

তবুও আমরা আমাদের মতো করে রোগীদের চিকিৎসা দিয়ে যাচ্ছি। আশা করি শিগ্রই এই সমস্যার সমাধান হবে। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. কবির সোহেল বলেন, আর্থিক ও জনবল কাঠামো অনুমোদন না থাকায় ৫০ শয্যা চালু করা যাচ্ছে না। তবুও কিছু করার নেই, বেড সমস্যার কারণে রোগী ফেরানো যাবে না। যত কষ্টই হোক রোগীদের সেবা দিতেই হবে। আর্থিক ও জনবল সংকটের বিষয়ে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে একাধিকবার চিঠি দেয়া হয়েছে। অনুমোদন পেলে সমস্যার শিগ্রই সমাধান হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

Leave a comment