স্পোর্টস ডেস্ক॥

সিরিজ শুরু হওয়ার আগেই বিরাট কোহলিকে বার্তা দিয়ে রাখলেন অস্ট্রেলিয়ার টেস্ট অধিনায়ক টিম পেইন। বলে দিলেন, বিরাট তার কাছে আলাদা কোনও চরিত্র নন। বিরাট তার কাছে আর পাঁচ জন ক্রিকেটারের মতোই। পেন আরও জানিয়েছেন, বিরাটকে ঘৃণা করতেই পছন্দ করেন তার দেশের সমর্থক ও ক্রিকেটারেরা। গতবার অস্ট্রেলিয়ার মাটি থেকে ২-১ সিরিজ জিতে ফিরেছে বিরাট-বাহিনী। ভারতীয় ক্রিকেটের ইতিহাসে সেটাই ছিল প্রথম বার অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট সিরিজ জয়। এবার ডেভিড ওয়ার্নার ও স্টিভ স্মিথ থাকায় ভারতকে পাল্টা জবাব দেওয়ার সুযোগ রয়েছে অস্ট্রেলিয়ার, বলে মনে করছে ক্রিকেট দুনিয়া। তার উপর প্রথম টেস্ট শেষেই দেশে ফিরে আসছেন বিরাট। মাইকেল ভন থেকে শুরু করে অন্য স্টিভ ওয়, প্রত্যেকেই একমত, বিরাটের অনুপস্থিতি ভারতীয় দলের উপর বিরাট প্রভাবই ফেলতে চলেছে।শনিবার নিজের দেশের সংবাদমাধ্যমকে পেইন বলেছেন, ‘জানি না কেন বিরাটকে নিয়ে এত প্রশ্ন করা হয় আমাকে। ও আমার কাছে আর পাঁচজন ক্রিকেটারেরই মতো। ওর সঙ্গে কোনও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক সত্যি নেই। টস ও ম্যাচের সময়েই যা দেখা-টেখা হয়।’বিরাটের ব্যাটিংয়ে মুগ্ধ হলেও পেইন জানিয়ে দিচ্ছেন, অস্ট্রেলীয়রা তাকে ঘৃণা করতেই বেশি পছন্দ করেন।

অস্ট্রেলিয়ার উইকেটরক্ষক এবং টেস্ট অধিনায়কের কথায়, ‘বিরাটের সঙ্গে আমাদের সম্পর্কটা অদ্ভুত। ক্রিকেটভক্ত হিসেবে ওর ব্যাটিংয়ে মুগ্ধ হলেও কেউ চায় না, ও রান করুক অথবা উইকেটে টিকে থাকুক। বিরাটকে ঘৃণা করতেই বেশি পছন্দ করি আমরা।’ভারতের শেষ অস্ট্রেলিয়া সফরে টেস্ট সিরিজে কোহলি ও পেইনের মধ্যে উত্তপ্ত সম্পর্ক তৈরি হয়ে গিয়েছিল। মাঠের মধ্যে বারবার দুই অধিনায়কের সংঘাত ঘটে। এমনকি, আম্পায়ারকেও হস্তক্ষেপ করতে হয়েছিল। দুই অধিনায়কের খটাখটি ছড়িয়ে পড়েছিল বাকি দুই দলের মধ্যেও। গতবারের অভিজ্ঞতা থেকে পেইন জানিয়েছেন, ভারত-অস্ট্রেলিয়া দ্বৈরথ মানেই চরম প্রতিদ্বন্দ্বিতা। কোনও দল এক ইঞ্চি জায়গা ছাড়ার সুযোগ দেয় না। তাই এ ধরনের ম্যাচে উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় হওয়াই স্বাভাবিক। পেনের অস্ট্রেলিয়া স্লেজিংয়ের মাত্রা কমিয়ে দিলেও বিপক্ষের সবচেয়ে বড় শক্তির বিরুদ্ধে বাক্য বিনিময় হতে বাধ্য। ঠিক যেমন অ্যাশেজে ইংল্যান্ডের বেন স্টোকস ও জো রুটের সঙ্গে করা হয়েছিল।

তাদের উদাহরণ টেনেই পেইন বলেছেন, ‘ভারত-অস্ট্রেলিয়া সিরিজ মানেই কঠিন প্রতিদ্বন্দ্বিতা। প্রত্যেকের মধ্যে উত্তেজনা থাকে। বিরাটও এই প্রতিদ্বন্দ্বিতা পছন্দ করে। আমিও করি। তাই পরিস্থিতি কখনও উত্তপ্ত হয়ে উঠতেই পারে। বিরাট ও আমি দু’দলের অধিনায়ক বলেই যে বাক্য বিনিময় হয়েছে, তা কিন্তু নয়। অন্য কারও সঙ্গেও সেটা হতে পারত।’পেইন যোগ করেন, ‘বিপক্ষের সব চেয়ে শক্তিশালী ক্রিকেটারের বিরুদ্ধে এটা হয়েই থাকে। ইংল্যান্ডের রুট ও স্টোকসের বিরুদ্ধে আমরা নামলে এ ধরনেরই প্রতিদ্বন্দ্বিতা দেখা যায়। বিশ্বের সেরা ক্রিকেটারেরা যখন ক্রিজে আসে, এমনিই পারদ চড়তে থাকে।’এবারে যদিও কোহলি-পেন দ্বৈরথ দেখা যাবে একটি মাত্র ম্যাচেই। ১৭ ডিসেম্বর অ্যাডিলেডে দিনরাতের টেস্টে। বাবা হচ্ছেন বলে প্রথম টেস্ট খেলেই দেশে ফিরে আসবেন বিরাট।

Leave a comment