ঘূর্ণিঝড় ইয়াস কেটে গেলেও কেটে যায়নি তার আঘাতের চিহ্ন। আকস্মিক এই ঝড়ের আঘাতে সাধারন মানুষের জান মালের ক্ষয় ক্ষতির পাশাপাশি জেলার একমাত্র বেসরকারী বিনোদন কেন্দ্র ”শাহবাজপুর মেঘনা পর্যটন কেন্দ্রটির ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।

ঝড় আর জলোচ্ছাসে আঘাতে পার্কের অধিকাংশ রাইেড ভেঙে গেছে, গাছপালা উপড়ে গিয়ে নষ্ট হয়েছে প্রাকৃতিক পরিবেশ। ভোলার একমাত্র এই বিনোদন কেন্দ্রটি পূর্নগঠনে সরকারী সহযোগীতার দাবী জানিয়েছেন স্থানীয়রা। সরেজমিনে গিয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, দেশের মূল ভুখন্ড থেকে বিচ্ছিন্ন দ্বীপজেলা ভোলা শিক্ষা সংস্কৃতি আর বিনোদনে পিছিয়ে রয়েছে। জেলার ২০ লক্ষ মানুষের চিত্তবিনোদনের জন্য সরকারী-বেসরকারীভাবে নেই বিশেষ কোন উদ্যোগ। — ভোলা সদরের মেঘনা নদীর তীরে ২০১০ সালে বেসরকারী উদ্যোগে গড়ে ওঠে শাহবাজপুর মেঘনা পর্যটন কেন্দ্র। পরিবার পরিজন নিয়ে অবসর সময় কাটানোর জন্য দর্শনার্থীদের কাছে এই স্থানটি বেশ জনপ্রিয়। নানা ধরনের বৃক্ষে শোভিত এই পর্যটন কেন্দ্রের প্রাকৃতিক পরিবেশ আর শিশুদের বিভিন্ন রাইড ছিলো বেশ আকর্ষনীয়। কিন্তু সম্প্রতি উপকূলীয় এলাকায় বয়ে যাওয়া ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের আঘাতে এই বিনোদন কেন্দ্রটি এখন ধ্বংসস্তুপ। ঝড়ের আঘাতে ভেঙ্গে গেছে গাছ, জোয়ারের আঘাতে ভেসে গেছে মাটি। এই পাকে ঘুরতে আসা জুয়েল, মিজানসহ অন্যান্যরা জানান, ঝড়ের আঘাতে লন্ডভন্ড এই পার্কে এখন দর্শনার্থীদের বসার মতো কোন স্থান নেই, নেই ঘুরে দেখার মতো কোন পরিবেশ। ভোলার মানুষের স্বাথে এই জেলার একমাত্র পর্যটন কেন্দ্রটি পূননির্মান জরুরী। পার্কে উদ্দ্যোক্তা মোঃ দুলাল মিয়া বলেন, ব্যক্তিগতভাবে এই পাক চালুর পর থেকে ঝড় জলোচ্ছাসে বেশ কয়েক বার ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছি কিন্তু কোন ধরনের সরকারী সহায়তা পাইনি। এবার ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের আঘাতে অন্তত ১০ লক্ষ টাকার ক্ষতি হয়েছে, এ ক্ষতি কিভাবে পূরণ করবো ভেবে পাচ্ছিনা। ভোলার এই একমাত্র বিনোদন কেন্দ্রটি পুন:নির্মানে সরকারী সহযোগিতার দাবী জানান তিনি।

জেলা ত্রান ও পূর্নবাসন কর্মকর্তা আলমগীর হোসেন বলেন, বিনোদন কেন্দ্রটি পূর্ন নির্মানের জন্য কোন প্রস্তাব এলে তা যদি ত্রান মন্ত্রণালয়ের হয় তবে অবশ্যই করা হবে। জেলার একমাত্র বিনোদন কেন্দ্রটির পূর্নবাসনে সরকারী সহায়তার দাবী জানিয়েছেন জেলার ভ্রমন পিপাসু মানুষ।

Leave a comment

Cancel reply