চরফ্যাশন প্রতিনিধি॥

দৈনিক ভোলা টাইমস ::  চরফ্যাশনে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের মেম্বার প্রার্থীর পক্ষে  ভোট চাইতে গিয়ে ফাঁকাঘরে গৃহবধূকে একা পেয়ে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে মেম্বার প্রার্থীর দুই কর্মীর বিরুদ্ধে। গত সোমবার দুপুর ১২টার দিকে চর কলমী ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডস্থ উত্তর মঙ্গল গ্রামের খাসপুকুরপাড়ের নুরুল হকের বাড়িতে এই ঘটনা ঘটেছে। ঘটনার পরপর অভিযুক্ত মান্নান ও খোকন গা-ঢাকা দিয়েছে। শশীভূষণ থানার অফিসার ইন চার্জ মো.রফিকুল ইসলাম জানান, এমন কোন অভিযোগ বা তথ্য কেউ থানা পুলিশকে অবহিত করেনি। ভিক্টিম বা তার পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ পেলে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

গতকাল মঙ্গলবার সকালে ভিক্টিম গৃহবধূ এই প্রতিনিধিকে জানান, তার স্বামী ও শ্বশুড় চট্রগ্রামে গাড়ি চালানোর কাজ করেন। বাড়িতে শ্বাশুড়ি, ৪র্থ শ্রেণি পড়ুয়া দেবর এবং তিনি থাকেন। চট্রগ্রাম থেকে আনজুরহাট বাজারের একটি বিকাশের দোকানে স্বামী শ্বশুড় টাকা পাঠিয়ে ছিলেন। ওই টাকা আনার জন্য শ্বশুড়ি আনজুরহাট বাজারে যান। ছোট দেবর ছয়েদকে নিয়ে তিনি ঘরের মধ্যে দুপুরের রান্নার কাজে ব্যস্ত ছিলেন। দুপুর আনুমানিক ১২টার দিকে মেম্বার প্রার্থী মো. ইয়াছিনের তালাচাবি মার্কার পোষ্টার এবং একটি হ্যান্ডমাইক  নিয়ে মান্নান আমার ঘরের ভেতরে প্রবেশ করেন। তিনি ঘরে ঢুকে আমার স্বামী, শ্বশুড় এবং শাশুড়ি কে কোথায় আছেন জানতে চান। আমি তার জিজ্ঞাসার জবাব দেই।

মান্নান আমার ঘরে ভেতরে বাক্সের দেয়ালে চালাচাবি মার্কার একটি পোষ্টার লাগায় এবং আমার কাছে একগ্লাস পানি খেতে চায়। পাশাপাশি তার হাতে থাকা মাইকটি আমার ছোট দেবরের হাতে দিয়ে তা নিয়ে রাস্তায় যেতে বলেন। ছোট দেবর পাইক হাতে পেয়ে খুশিতে রাস্তায় চলে যায়। আমি একগ্লাস পানি নিয়ে আসলে মান্নান আমাকে ঝাপটে ধরে মাটিতে শুইয়ে ফেলে এবং জোরপূর্বক আমাকে ধর্ষণের চেষ্টা করে। সে আমাকে একাঘরে পেয়ে আমার স্পষ্টকাতর অঙ্গে হাত চালায় এবং আমাকে বিবস্ত্র করার চেষ্টা করে। আমি ডাক চিৎকার দিতে চাইলে সে আমার গলাটিপে ধরে। আমি ধস্তাধস্তি ও চিৎকারের চেষ্টা করলেও ঘরের আশেপাশে কোন ঘর না থাকায় আমি ভয় পেয়ে যাই এবং ঘটনাটি আমার শ্বশুড় ও স্বামীকে জানাবো বলে হুমকী দেই।

পরে আমি ধস্তধস্তি করে মান্নানের হাত থেকে নিজেকে রক্ষা করে ঘর থেকে দৌড়ে বের হয়ে যাই। এসময় ঘরের সামনে আরোও  একজনকে পোষ্টারের প্যাকেট হাতে দাড়িয়ে থাকতে দেখি। পরে জানতে পানি তার নাম খোকন।  ঘটনার পরপর আমি ভয়ে পাশের গ্রামের আমার বাবার বাড়িতে চলে যাই। সেখানে গিয়ে চট্রগ্রামে অবস্থানরত আমার স্বামী ও শ্বশুড়কে বিষয়টি অবহিত করি। খবর পেয়ে আমার স্বামী ও শ্বশুড়  গতকাল মঙ্গলবার  বিকেলে চট্রগ্রাম থেকে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন।

ভিক্টিমের বৃদ্ধা শাশুড়ি জানান, ছোট ছেলে ও পুত্রবধূকে ঘরে রেখে আমি আনজুরহাট বাজারে বিকাশের টাকা আনতে যাই। বাড়ি এসে পুত্রবধূকে পাইনি। বিস্তারিত জেনে বাবার বাড়ি থেকে গতকাল মঙ্গলবার সকালে পুত্রবধূকে আমার বাড়িতে নিয়ে এসেছি। আমার স্বামী ও ছেলে চট্রগ্রাম থেকে আসলে তারপর আমরা থানায় যাবো এবং মামলা করবো।

পাড়াপ্রতিবেশীরা জানান, মান্নান দীর্ঘদিন ঢাকায় ছিল। জাল টাকা আর মাদকের ব্যবসায় জড়িয়ে গণপিটুনি ও মামলায় জড়িয়ে সে শহর ছেড়ে গ্রামে এসে গা-ঢাকা দেয়। গ্রামে থেকে  প্রভাবশালীদের ছত্রছায়ায়   মান্নান  এসব অপকর্ম অব্যহত রাখে এবং গ্রামের কিছু বিভ্রান্ত যুবককে নিয়ে জুয়া আর মাদকের আখড়া গড়ে তোলে।

কর্মীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রসঙ্গে মেম্বার প্রার্থী মো. ইয়াছিন জানান, এমন একটা ঘটনার খবর পেয়ে সোমবার বিকেলে আমি ভিক্টিমের  বাড়ি যাই। বাড়িতে শ্বাশুড়িকে পেলেও ভিক্টিমকে পাইনি। শ্বাশুড়ি আমাকে জানান, মান্নান তার পুত্রবধূর কানের জিনিস(গহনা) নিয়ে গেছে এবং নেয়ার সময় গলাটিপে ধরেছে।তবে এই ঘটনাকে নিয়ে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগ সঠিক নয়। আমি বর্তমান মেম্বার এবং চলমান নির্বাচনে মেম্বার প্রার্থী।

ভিক্টিম পরিবার আমার প্রতিপক্ষ মোরগ মার্কার  প্রার্থী হারুনের  অনুসারী।  আমার প্রতিপক্ষ এই ঘটনাকে ভিন্নখাতে নিয়ে বড় করার চেষ্টা করছে।  শশীভূষণ থানার ওসি রফিকুল ইসলাম জানান, এই ঘটনায় এখনো কোন অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

সূত্র::– https://www.bbcbangla24.com/2021/06/blog-post_15.html

Leave a comment