বরগুনার তালতলীতে ধর্ষণ ও খুনের হুমকিতে এলাকা ছেড়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছে এক কিশোরী। তালতলী প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে এমন অভিযোগ করেছে ভুক্তভোগীর পরিবার। অভিযোগের বিষয়ে মামলার আসামি আবুল হাসানের বক্তব্য জানতে চাইলে সাহিন শাইরাজ নামে এক সাংবাদিকের ওপর হামলা চালিয়েছে সন্ত্রাসীরা। এ সময় তাকে পিটিয়ে গুরুতর জখম করা হয়েছে।

বুধবার সকাল ১০টার দিকে উপজেলার মুক্তিযোদ্ধা রোডের আবুল জোমাদ্দারের কাপড়ের দোকানের সামনে এ ঘটনা ঘটে। আহত সাংবাদিক তালতলী প্রেসক্লাবের দপ্তর সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। হামলার ঘটনায় তালতলী সাংবাদিক ফোরাম, সাংবাদিক ইউনিয়ন, রিপোর্টার্স ইউনিটির নেতৃবৃন্দসহ অন্যান্য সাংবাদিকরা তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন।সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, উপজেলার পচাকোরালিয়া ইউনিয়নের মনসাতলী এলাকার হারুন মিয়ার ছেলে সাংবাদিক পরিচয় দেয়া আবুল হাসান বিভিন্ন সময় রাসেল মুসুল্লীর কিশোরী কন্যা ও ভাগ্নিকে অশালীন মন্তব্য ও কুপ্রস্তাব দিয়ে আসছিল। বিভিন্ন সময় টয়লেটে মোবাইল ক্যামেরা লুকিয়ে রাখত।গত ১১ মার্চ আবুল হাসান ও তার দুই সহযোগীসহ রাসেল মুসুল্লীর বাড়িতে গিয়ে তার ভাগ্নিকে ধর্ষণের চেষ্টা করে। এ ঘটনায় নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে আদালতে মামলা করা হলে তালতলী থানা পুলিশ আবুল হাসানকে গত ৭ এপ্রিল গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠায়।

কিছুদিন পরে আবুল হাসান জামিনে বের হয়ে ওই রাসেল মুসুল্লীর ভাগ্নিকে মামলা উঠিয়ে নিতে বলে। নয়তো ধর্ষণের পরে হত্যা করে লাশ গুম করা হবে বলে হুমকি দেয়।

এ ঘটনায় ভয়ে ভাগ্নি এলাকা ছাড়ায় তার মামা রাসেল বুধবার সকাল ৯টার দিকে তালতলী প্রেসক্লাবে এসে বিচার চেয়ে একটি সংবাদ সম্মেলন করেন। সংবাদ সম্মেলন শেষে উপজেলার মুক্তিযোদ্ধা রোডের আবুল জোমাদ্দারের কাপড়ের দোকানের সামনে আবুল হাসানের সঙ্গে দেখা হয়। পরে সংবাদ সম্মেলনের নিউজে তার বক্তব্য নিতে গেলে ক্ষিপ্ত হয়ে আবুল হাসান ও সঙ্গে থাকা শাহদাত হোসেনসহ সাত-আটজন মিলে প্রেসক্লাব নিয়ে ‘আপত্তিকর মন্তব্য’ করেন। পরে একপর্যায়ে সাংবাদিক সাহিন শাইরাজের ওপর হামলা চালায়। এতে মাথায় আঘাত ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম হয়। পরে স্থানীয়রা উদ্ধার করে আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে হাসপাতালে পাঠায়। প্রত্যক্ষদর্শী কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সাংবাদিক সাহিন সাইরাজের সঙ্গে কিছু লোকজনের কথার কাটাকাটি হয়। এক পর্যায় সাহিন সাইরাজকে বেধড়ক মারধর করেন।পরে স্থানীয়রা উদ্ধার করে তাকে হাসপাতাল পাঠায়। সএ বিষয়ে আহত সাংবাদিক সাহিন বলেন, আবুল হাসানের বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন করেন ভুক্তভোগী এক পরিবার। সেই বিষয়ে তার বক্তব্য নিতে গেলে আবুল হাসান ও শাহদাতসহ সাত-আটজন মিলে প্রেসক্লাব নিয়ে বাজে মন্তব্য করেন এবং আমাকে মারধর করেন।

প্রেসক্লাবের দপ্তর সম্পাদক শাহিন শাইরাজ সন্ত্রাসী হামলায় আহত হওয়ার বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে ক্লাবের সভাপতি মো. জসিম উদ্দিন বলেন, ‘ঘটনাটি খুবই দুঃখজনক। সুষ্ঠু তদন্ত করে অপরাধীদের আইনের আওতায় এনে বিচারের দাবি জানাচ্ছি প্রশাসনের কাছে।’

তালতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কামরুজ্জামান মিয়া বলেন, আবুল হাসানের সঙ্গে সাংবাদিক সাহিন সাইরাজের মারধরের ঘটনা শুনেছি। দুপক্ষই আমতলী হাসপাতালে ভর্তি আছে। তিনি বলেন, কোনো পক্ষ থেকেই অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Leave a comment