আসন্ন ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে গরুর হাটসহ রাজধানীতে সক্রিয় হয়ে উঠেছে জাল নোট সরবরাহকারী চক্র। উদ্দেশ্য পশুর হাটসহ বিভিন্ন বাজারে জাল নোট ছড়িয়ে দেয়া। ইতোমধ্যে তারা কোটি টাকারও বেশি জাল নোট ছড়িয়ে দিয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। এই চক্র এক লাখ টাকার জাল নোটের বান্ডিল বিক্রি করত ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকায়। মো. নাইমুল হাসান তৌফিক (২১) নামে চক্রটির এক সদস্যকে গ্রেফতার করেছে র‍্যাব।মঙ্গলবার (২২ জুন) বিকেলে রাজধানীর কারওয়ান বাজার র‍্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান র‍্যাব-১০ এর অধিনায়ক (সিও) অতিরিক্ত ডিআইজি মাহফুজুর রহমান।

তিনি বলেন, মঙ্গলবার রাতে রাজধানীর বাড্ডা এলাকায় অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ জাল টাকা ও জাল টাকা তৈরির সরঞ্জামসহ জাল টাকার চক্রের সদস্য তৌফিককে গ্রেফতার করে র‍্যাব-১০। সে রাজধানীর একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ছাত্র। এ সময় তার কাছ থেকে ৫০ লাখ ২৮ হাজার টাকা সমমূল্যের জাল নোট ও জাল টাকা তৈরির সরঞ্জাম জব্দ করা হয়। র‍্যাব-১০ অধিনায়ক জানান, গ্রেফতার তৌফিক রাজধানীর বাড্ডা এলাকায় একটি বিলাসবহুল বাড়িতে ভাড়া থেকে জাল নোট তৈরি করত। কয়েকটি সিন্ডিকেটের মাধ্যমে তৈরি হয় এই জাল টাকা। যেখানে একটি পক্ষ জাল টাকার কাগজ, রাঙতাসহ নিরাপত্তার সরঞ্জাম সরবরাহ করে থাকে। টাকা তৈরির পরে তা বিক্রি করা হয় সরাসরি ও অনলাইনে। এই চক্রের সঙ্গে জড়িত আরও দুই জনের সন্ধান পেয়েছেন র‍্যাব। তাদের ধরতে অভিযান চলছে।

অতিরিক্ত ডিআইজি মাহফুজুর রহমান বলেন, গ্রেফতার তৌফিক একটি সংঘবদ্ধ জাল নোট প্রস্তুতকারী চক্রের সক্রিয় সদস্য। সে প্রায় তিন বছর ধরে এই কাজ করে আসছিল। প্রতি এক লাখ টাকা জাল নোটের বান্ডিল ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকায় বিক্রি করত তারা। আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে বিভিন্ন গরুর হাটসহ অন্যান্য বাজারে সরবরাহ করার জন্য এই বিপুল পরিমাণ জাল টাকা তৈরি করা হয়েছিল। ইতোমধ্যে তাদের মাধ্যমে শতাধিক চালানে কোটি টাকারও বেশি জাল টাকা ছড়িয়ে পড়েছে বাজারে।

এক প্রশ্নের জবাবে র‍্যাব-১০ এর সিও বলেন, একটি জেলার একজন জাল নোট প্রস্তুতকারীর সঙ্গে গ্রেফতার তৌফিকের হাতেখড়ি হয়। কীভাবে জাল নোট প্রস্তুত করা হয় সেই ব্যক্তিই তাকে শিখিয়ে দেয়। ওই ব্যক্তিকে আইনের আওতায় আনতে আমাদের অভিযান চলছে।

ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে চক্রটি সক্রিয় হয়ে ওঠে। রাজধানীসহ সারাদেশের গরুর হাটগুলোতে জাল টাকা ছড়িয়ে দেয়ার জন্যই সক্রিয় হয়ে ওঠে তারা। জাল টাকার নোটগুলো গরু কেনাবেচার হাটে ছড়িয়ে দিত। প্রাথমিকভাবে এ চক্রের সঙ্গে জড়িত আরও দুই সদস্যের খোঁজ পাওয়া গেছে। চক্রে আরও একাধিক সদস্য আছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

গ্রেফতারের সময় তার কাছ থেকে জাল টাকা তৈরির কাজে ব্যবহৃত একটি ল্যাপটপ, একটি প্রিন্টার, একটি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে। আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে পশুর হাটের বিষয়ে অতিরিক্ত ডিআইজি মাহফুজুর রহমান বলেন, বিভিন্ন গরুর হাটে জাল টাকা পরীক্ষার জন্য জাল টাকা পরীক্ষার জন্য র‍্যাবের মেশিন থাকবে। বাংলাদেশ ব্যাংক থেকেও র‍্যাবকে সহায়তা করা হয়। ক্রেতা কিংবা ব্যবসায়ীরা এসব মেশিন দিয়ে টাকা পরীক্ষা করে নিতে পারেন। টাকাগুলো ভালো করে চেক করতে হবে।

একবার নয়, দুবার নয় একাধিকবার টাকাগুলো পরীক্ষা করার পরামর্শ দেন তিনি।

Leave a comment