আমির হামজা ॥
সরকারের দেওয়া বিধিনিষেধে আসন্ন কোরবানির লক্ষাধীক পশু নিয়ে শঙ্কায় আছেন দ্বীপ জেলা ভোলার খামারিরা। জেলার ৭ উপজেলার ২ হাজার ৯শো ৭৫ জন খামারির রয়েছে ২২ হাজার ৩শো পশু। এসব পশু আসন্ন কোরবানির জন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে। কিন্তু সরকারের দেওয়া বিধিনিষেধে এসব পশু নিয়ে শঙ্কায় আছেন খামারিরা। খামারিদের প্রত্যাশা ছিল আসন্ন কোরবানির ঈদে ভালো দামে পশু বিক্রি করে গতবছর তাদের যে ক্ষতি হয়েছে তা তাঁরা পুষিয়ে নিবেন। কিন্তু সরকারের দেওয়া বিধিনিষেধে তাদের সেই স্বপ্ন বাস্তবায়ন হচ্ছে না। ছোট ছোট খামারিরা তেমন একটা দুশ্চিন্তায় না থাকলেও বড় বড় খামারিরা বেশ দুশ্চিন্তায় রয়েছেন। তাঁরা বলছেন, সরকারের চলমান বিধিনিষেধ অব্যাহত থাকলে তাঁরা বড় ধরনের ক্ষতির সম্মুখীন হবেন। জেলা প্রাণী সম্পদ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, জেলায় এবার পশুর টার্গেট রয়েছে ১ লক্ষ ২ হাজার ৬০টির। যাঁর মধ্যে মজুদ রয়েছে ১ লক্ষ ৬ হাজার ৭৫৪টি পশু।

এরমধ্যে গরু মজুদ আছে ৭৫ হাজার ৩০৪ টি, মহিষ ২ হাজার ৫৯২টি, ছাগল ২৭ হাজার ৪৭৪টি, ভেড়া ১ হাজার ৩শো ৮৪টি। এবার কোরবানির ঈদে দেশের আভ্যন্তরে পালনকৃত গরু দিয়েই ভোলায় কোরবানি দেয়ার মতো পশুর শতভাগ চাহিদা মেটানো সম্ভব হবে। তবে বিধিনিষেধ চলমান থাকলে ও ভারতীয় গরু দেশে প্রবেশ করলে সেই চাহিদা মেটানো সম্ভব হবে না। খামারিরা বলছেন, এভাবে বিধিনিষেধ চলতে থাকলে তাঁরা অনেক বিপদে পড়ে যাবেন। অন্তত কিছুদিনের জন্য হলেও যাতে খামারিরা ভালো দামে পশু বিক্রি করতে পারে সে ব্যবস্থা যেনো করে দেওয়া হয়। খামারিরা বলছেন, তাঁরা লাভ চাচ্ছে না। অন্তত খামারে তাঁদের যে বিনিয়োগ ও খরচ হয়েছে তা যেনো উঠে আসে। জেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ইন্দ্রজিৎ কুমার মন্ডল জানান, জেলায় এবার ৮টি অনলাইন খোলা হয়েছে পশু বেচা বিক্রির জন্য। সরকারের দেওয়া বিধিনিষেধ না থাকলে এবং ভারতীয় গরু দেশে আসা বন্ধ হলে ভোলার খামারিরা ভালো দামে পশু বিক্রি করতে পারবেন বলে আশা করছেন তিনি।

Leave a comment