মনপুরা প্রতিনিধি ॥

দৈনিক ভোলা টাইমস::ভোলার মনপুরায় ইউএনও’র নাম ভাঙিয়ে সরকারী কেওড়া গাছ কেটে নেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত সেলিম মালতিয়া উপজেলার উত্তর সাকুচিয়া ইউনিয়নের ৮ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা। একই এলাকার লতাখালী নামক স্থানে বনবিভাগের সরকারী কেওড়া বাগান থেকে এসব গাছ কেটে নেয়া হয়।

খবর পেয়ে বনবিভাগ অভিযান চালিয়ে উত্তর সাকুচিয়া ইউনিয়নের বাংলাবাজার স্ব-মিল থেকে কাঠ চেরাইয়ের সময় ১১ ঘনফুট কাঠ জব্দ করে। এব্যাপারে অভিযুক্ত সেলিম মালতিয়াকে আসামী করে মনপুরা থানায় মামলার প্রক্রিয়া চলছে বলে জানান রেঞ্জ কর্মকর্তা।

বৃহস্পতিবার (১৫ জুলাই) বিকেলে এসব গাছ কাটা হয়েছে বলে জানান স্থানীরা। পড়ে বনবিভাগ খবর পেয়ে শুক্রবার বিকেল ৪ টায় এসব গাছ উদ্ধার করে।

মনপুরা বনবিভাগের রেঞ্জ কর্মকর্তা মোঃ মইনুল ইসলামের নের্তৃত্বে অভিযান চালিয়ে সাকুচিয়া বিট কর্মকর্তা মোবারক আলির সহযোগিতায় ১১ ঘনফুট গাছ জব্দ করা হয়।

স্থানীয় বাসিন্দা মালেক, শাহাদাত, সুমন, আজগর জানান, উপজেলার উত্তর সাকুচিয়া ইউনিয়নের ৮ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা মোঃ সেলিম মালতিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসারের দোহায় দিয়ে এসব কেওড়া গাছ কাটতে থাকে। ইউএনও’র কথা বলায় কেউ তাকে বাধা দেয়নি। কেওড়া বাগান থেকে ৭ টি মোটা কেওড়া গাছ কেটে নিয়ে যায় সেলিম মালতিয়া। তবে কিছু গাছ চেরাই করে রাতে বিক্রি করা অভিযোগ পাওয়া গেছে। সীমিত অংশ গাছ বনবিভাগ জব্দ করতে সক্ষম হয়।

গাছ কাটার অনুমতির কথা অস্বীকার করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ শামীম মিঞা জানান, সেখানে আমি একটি কলোনী পরিদর্শনে যাই। যাওয়ার পথে একটি কালবার্ট ভাঙা ছিলো তাই স্থানীয় সেলিম মলতিয়া নামক এক ব্যক্তিকে কালভার্টটি মেরামতের জন্য ৫০০ টাকা দিয়ে আসি। এবং বাঁশ দিয়ে সেটা মেরামতের কথা বলে আসি। পরবর্তীতে জানলাম সেই ব্যক্তি কেওড়া বাগানের অনেকগুলো গাছ কেটে নিয়ে গেছে। এব্যাপারে বনবিভাগের রেঞ্জ কর্মকর্তাকে অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়ার কথা বলা হয়েছে।

এব্যাপারে বনবিভাগের উপজেলা রেঞ্জ কর্মকর্তা মোঃ মইনুল ইসলাম জানান, বনবিভাগের সরকারী কেওড়া বাগান থেকে এসব গাছ কাটার কোন অনুমতি দেয়া হয়নি। অভিযুক্ত সেলিম মালতিয়া ইউএনও মহোদয়ের দোহাই দিয়ে এসব গাছ কেটেছে। আমরা অভিযান চালিয়ে গাছ জব্দ করেছি। তার বিরুদ্ধে মনপুরা থানায় মামলার প্রক্রিয়া চলছে।

Leave a comment