অন্য গাড়ির নিচে ফেলে দেওয়া হয়েছিল ধর্ষণের পর অটো থেকে চম্পাকে !

ডেস্ক রিপোর্ট::কক্সবাজারের চকরিয়ায় আঞ্চলিক মহাসড়কের মরংঘোনা থেকে বুধবার রাতে বিবাহিত তরুণী চম্পা বেগমের লাশ উদ্ধার করে পুশিশ। এর পর পরই নিরুদ্দেশ হওয়া সিএনজি অটোরিক্সাসহ জয়নাল আবেদীন (১৮) নামক এক চালককে আজ শুক্রবার নিজ গ্রাম থেকে র‌্যাব আটক করে। এরপর তার স্বীকারোক্তিতে হত্যাকাণ্ডের মূল রহস্য বের হতে শুরু করেছে। ওই তরুণীকে ধর্ষণের পর কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে চলন্ত সিএনজি অটো থেকে বিপরীত দিক থেকে আসা অপর গাড়ির সামনে ছুঁড়ে ফেলে হত্যা করা হয় বলে র‌্যাব জানিয়েছে। ঘটনায় জড়িত সাজ্জাদ হোসেন (৩০) নামের আরেক চালককেও ধরতে মাঠে রয়েছে পুলিশ ও র‌্যাব।

চকরিয়া থানা পুলিশ জানায়, আটক চালক জয়নালের বাড়ি পেকুয়া উপজেলার সদর ইউনিয়নের মেহেরনামা নন্দীরপাড়া গ্রামে। সেই ওই গ্রামের মোহাম্মদ আলীর ছেলে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে চালক জয়নালের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের বরাত দিয়ে র‌্যাব জানায়, মূলত চট্টগ্রাম থেকে পেকুয়া, এরপর চকরিয়ার কোনাখালী ইউনিয়নের মরংঘোনা পর্যন্ত আসার সময় ওই তরুণী উপর্যপুরি ধর্ষণের শিকার
হয়েছেন বলে গ্রেপ্তার সিএনজি অটোরিক্সা চালক র‌্যাবের কাছে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছে। এমনকি সড়কের নির্জন এলাকায় নিয়ে গিয়ে ধর্ষণের সময় কথা কাটাকাটির জেরে ওই তরুণীকে চলন্ত অবস্থায় অটোরিক্সা থেকে সড়কে ফেলে দেওয়া হয় বিপরীত দিক থেকে আসা অপর একটি দ্রুতগামী গাড়ির সামনে। এতে গাড়ির চাপায় ওই তরুণী ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারায়। আজ বিকালে এসব বিষয়
নিশ্চিত করেছেন র‌্যাব-১৫ এর অধিনায়ক উইং কমাণ্ডার আজিম আহমেদ।

তবে এই হত্যাকাণ্ডের পর লাশ উদ্ধার পরবর্তী তরুণী চম্পা বেগমের বাবা রুহুল আমিন চকরিয়া থানায় চারজনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা রুজু করেন। মামলার এজাহারে রুহুল আমিন দাবি করেন, আপন বোন ছকিনা বেগম, তার ছেলে (ভাগ্নে) আরিফের সঙ্গে বিয়ে না দেওয়ায় ভগ্নিপতি সালাহউদ্দিন ও অপর অজ্ঞাত সিএনজি অটোরিক্সা চালক মিলে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে বিবাহিত মেয়ে চম্পাকে। নাম উল্লেখিত আসামি তিনজনের বাড়ি চট্টগ্রামের পটিয়ায়।

র‌্যাব কক্সবাজার ক্যাম্পের ইনচার্জ মেজর মেহেদী হাসান জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে নিজ গ্রাম পেকুয়ার মেহেরনামা নন্দীরপাড়া থেকে ধর্ষক জয়নালকে আটক করা হয়। একইসাথে ব্যবহৃত সিএনজি অটোরিক্সাটিও জব্দ করা হয়। জব্দকৃত অটোসহ আটক জয়নালকে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। অন্য সহযোগী সাজ্জাদকেও আটক করতে র‌্যাব মাঠে রয়েছে।

চকরিয়া থানার ওসি মো. হাবিবুর রহমান কালের কণ্ঠকে বলেন, প্রাথমিকভাবে তরুণী চম্পার বাবা বাদি হয়ে থানায় এজাহার দিলে তা মামলা হিসেবে রুজু করা হয়। তবে যে সিএনজি অটোরিক্সায় করে চম্পা আসছিল, সেই গাড়িসহ চালক জয়নাল আটক হওয়ায় তাকেও মামলায় আসামি এবং গ্রেপ্তার দেখিয়ে
আদালতে তোলা হবে।