কালবৈশাখী ঝড়-বৃষ্টি থাকবে সপ্তাহজুড়েই,

ভোলা টাইমস্ ডেস্কঃ

সম্প্রতি দেশের ওপর দিয়ে বয়ে গেল ঘূর্ণিঝড় আম্পান। এরমধ্যেই হঠাৎ মঙ্গলবার মধ্যরাতে এবং বুধবার সকালে রাজধানীসহ বেশ কিছু জেলায় হয়ে গেছে কালবৈশাখী ঝড়। এতে লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে উত্তরের জেলা জয়পুরহাটসহ অনেক এলাকা। মারা গেছে চারজন। আবহাওয়া অধিদপ্তর বলছে, চলতি সপ্তাহের পুরোটাজুড়ে রাজধানী ঢাকা ও এর আশেপাশের অঞ্চলে এভাবেই ঝড় বৃষ্টি থাকবে। সামনে আসতে থাকা বর্ষার পূর্বাভাস হিসেবেই এই বৃষ্টি হচ্ছে বলে জানাচ্ছে সংস্থাটি। আবহাওয়া অধিদপ্তর বলছে, জুনের ৪ তারিখের পর বঙ্গোপসাগর থেকে ভারতীয় উপমহাদেশের স্থলভাগে মৌসুমি বায়ু প্রবেশের কথা রয়েছে। বর্ষা ঋতু এবার সবার আগে দক্ষিণ ভারতে প্রবেশ করবে। এরপর বেঙ্গল বেসিনেও ধীরে ধীরে এর প্রভাব বাড়বে। তথ্যমতে, রাজধানীর উপর দিয়ে মঙ্গলবার মধ্যরাত ও বুধবার সকালে ঘণ্টায় ৭৮ থেকে ৮৩ কিলোমিটার বেগে বয়ে গেছে এ বছরের সবচেয়ে শক্তিশালী কালবৈশাখী ঝড়। ঝড়ের তাণ্ডবে রাজধানীর কোনো কোনো এলাকায় উপড়ে গেছে গাছপালা। আবহাওয়া অফিস রাজধানীতে ৬৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করেছে। যার মধ্যে সকালে মাত্র তিন ঘণ্টায় রেকর্ড হয়েছে ৩৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত যা সাম্প্রতিক সময়ের সর্বোচ্চ রেকর্ড। এদিকে বুধবার অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোর আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, বায়ুচাপের তারতম্যের প্রভাবে দেশের অনেক অঞ্চলে ঘণ্টায় ৪৫-৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ীভাবে ঝড়-বৃষ্টি হতে পারে। তাই এসব অঞ্চলের নদীবন্দরকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। তাতে বলা হয়েছে, বায়ুচাপের তারতম্যের প্রভাবে ঢাকা, ফরিদপুর, মাদারীপুর, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার অঞ্চলের ওপর দিয়ে দক্ষিণ বা দক্ষিণ-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫-৬০ কিলোমিটার বেগে বৃষ্টি বা বজ্রবৃষ্টিসহ অস্থায়ীভাবে দমকা বা ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। এসব এলাকার নদীবন্দরকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।আর দেশের উপকূলীয় এলাকায় ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। আর এই কারণে দেশের তিনটি সমুদ্র বন্দর ও কক্সবাজার উপকূলীয় এলাকাকে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলেছে আবহাওয়া অফিস। আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, উত্তর বঙ্গোপসাগর এলাকায় বায়ুচাপের তারতম্যে আধিক্য বিরাজ করছে। এর প্রভাবে উত্তর বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকা এবং সমুদ্রবন্দরগুলোর ওপর দিয়ে ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। বায়ুচাপের তারতম্যের আধিক্য ও অমাবশ্যার প্রভাবে উপকূলীয় জেলা সাতক্ষীরা, খুলনা, বাগেরহাট, ঝালকাঠি, পিরোজপুর, বরগুনা, পটুয়াখালী, ভোলা, বরিশাল, লক্ষ্মীপুর, চাঁদপুর, নোয়াখালী, ফেনী, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার এবং তাদের অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরসমূহের নিম্নাঞ্চল স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে দুই থেকে চার ফুটের অধিক উচ্চতার জলোচ্ছ্বাসে প্লাবিত হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারগুলোকে পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত উপকূলের কাছাকাছি থেকে সাবধানে চলাচল করার জন্যে নির্দেশও দেয়া হয়েছে।

Facebook Comments