ডাক্তার মহসীন খান করোনাকালের একজন নির্ভীক যোদ্ধা 

হাসান পিন্টু ॥

করোনাকালে দেশের বিভিন্ন হাসপাতাল ও ডাক্তারদের বিরুদ্ধে রোগীদের সেবার মান নিয়ে অভিযোগের শেষ নেই। তবে এ সময়ে ব্যতিক্রম লালমোহন হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডাক্তার মহসীন খান। করোনাকালে রোগীদের সেবায় তিনি একজন নির্ভীক যোদ্ধা। ভয়ঙ্কর এই সময়ে নিজের জীবনের কথা না ভেবে রোগীদের সেবায় নিজের সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা অব্যাহত তাঁর।

হাসপাতালের করোনা ওয়ার্ডে যেতে যখন অন্যদের মাঝে সংকোচ বোধ হয়, তখনও করোনা ওয়ার্ডে কেবল একটি মাস্ক পড়েই রোগীদের সেবায় কাজ করে যাচ্ছেন এই মানবিক ডাক্তার খ্যাত আরএমও ডা. মো. মহসীন খান। বিগত দিনগুলোতে বিভিন্ন মানবিক কর্মকাণ্ড ও রোগীদের সেবা করে তিনি প্রশংসা কুড়িয়েছেন সচেতন মহলের। জনপ্রিয়তা অর্জন করেছেন উপজেলার সর্ব মহলে।

গত কয়েকদিন আগে রাত ১০ টার দিকে উপজেলার লালমোহন ইউনিয়ন থেকে গুরুতর অসুস্থ্য অবস্থায় হাসপাতালে এক রোগীকে নিয়ে আসেন স্বজনরা। ইমার্জেন্সি বিভাগের ডাক্তার রোগীর কাছে না গিয়ে দূর থেকে রোগীর পরিস্থিতি বর্ণনা করতে বলেন। এরপর রোগীর অবস্থার কথা শুনে রোগীকে করোনা ওয়ার্ডে ভর্তি করতে বলেন। পরে ওই রোগীকে করোনা ওয়ার্ডে নিয়ে ভর্তি করা হয়। রাতে ইনডোরে রাউন্ডে আসেন আরএমও ডা. মহসীন খান।

এরপর নিজের নিরাপত্তা বলতে মুখে একটি মাস্ক নিয়েই করোনা ওয়ার্ডে গিয়ে উপজেলার লালমোহন ইউনিয়ন থেকে আসা ওই রোগীর কাছে গিয়ে তাকে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেন। করোনার তেমন কোনো আলামত না পেয়ে রাতেই ওই রোগীকে সাধারণ ওয়ার্ডে শিফট করে দেন। ডাক্তার মহসীন খানের এমন দায়িত্বশীলতা ও আন্তরিকতা দেখে রোগীর সাথে থাকা স্বজনরা তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

এছাড়াও প্রতিনিয়িত নিজের জীবনের কথা না ভেবে রোগীদের সেবায় নিজেকে নিয়োজিত রেখেছেন করোনাকালের এই নির্ভীক যোদ্ধা ডাক্তার মহসীন খান। এ ব্যাপারে লালমোহন হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডাক্তার মো. মহসীন খান বলেন, আসলে অবকাঠামো এবং জনবল সীমাবদ্ধতার কারণে উপজেলা লেভেলে করোনা উপসর্গ নিয়ে আসা অথবা করোনা পজেটিভ রোগীদের চিকিৎসা করা একটু কঠিন। তারপরও আমরা যথাসাধ্যভাবে চিকিৎসা দেওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। আমি স্বপ্ন দেখি হাসপাতালে এসে কোনো রোগী যেনো দুর্ভোগে না পড়ে। সকল রোগীকে গুরুত্ব সহকারে সেবা দেয়ার চেষ্টা করি সর্বদা। রোগীদের সেবায় আমি সব সময় প্রস্তুত রয়েছি।

Facebook Comments