ভোলায় টানা বর্ষণে তলিয়ে গেছে কৃষকের ফসলের ক্ষেত, চিন্তিত চাষিরা

টানা বর্ষণে দৌলতখানে তলিয়ে গেছে কৃষকের ফসলের ক্ষেত। ফলে চিন্তায় পড়েছেন অনেক চাষিরা। বিশেষ করে শীতকালিন সবজি ও পানের বরজের ক্ষতির শঙ্কায় রয়েছেন তারা। জেলা কৃষি বিভাগ জানায়, গত ৩ দিনের টানা বর্ষণে ২ হাজার ৬০৮ হেক্টর শীতকালিন শাক-সবজি ও ২৮৭ হেক্টর পানের বরজে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে।

এর মধ্যে ভোলা সদরে ৩৬০ হেক্টর সবজি ও ২০ হেক্টর পান, দৌলতখান উপজেলায় ৫৬০ হেক্টর জমির সবজি ও ৬৮ হেক্টর পান, বোরহানউদ্দিন উপজেলায় ৩৪০ হেক্টর সবজি ও ২০ হেক্টর জমির পান, তজুমদ্দিন উপজেলায় ২৯০ হেক্টর জমির সবজি ও ৩১ হেক্টর জমির পান, লালমোহন উপজেলায় ১৫৬ হেক্টর জমির সবজি ও ১০ হেক্টর জমির পান ও মনপুরা উপজেলায় ৭৩ হেক্টর সবজি জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। ভেলুমিয়ার চন্দ্র প্রসাদ গ্রামের কৃষক মো. সালাম মিয়া জানান, এ বছর তিনি ১০ একর জমিতে ধান ও ২ গন্ডা জমিতে সবজি আবাদ করেছেন।

কিন্তু বৃষ্টিতে বিনস্ট হয়েছে ফসল। এছাড়া গত তিন দিনের একটানা বৃষ্টিতে শত শত হেক্টর জমির রবি শস্যের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। দূর্যোগপুর্ন-আবহাওয়ায় টানা বৃষ্টিতে ভোলা জেলার বেশ কয়েকটি উপজেলার ইউনিয়নের পুকুরের মাছ,পানের বরজ, বসত ঘর ও রবি শস্য পানিতে ডুবে আছে। বৃষ্টির পানি সরানো না গেলে ক্ষতির পরিমাণ বাড়বে বলে জানান একাধিক চাষিরা। এদিকে শ্রমিক সংকটে থাকায় ফসল তুলতে না পেরে ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন বলে জানান কৃষকরা। এদিকে দৌলতখান উপজেলায় ৫৬০ হেক্টর জমির রবি শস্য বৃষ্টির পানিতে আক্রান্ত হয়েছে বলে কৃষি বিভাগ জনালেও চাষীরা বলছেন আরও কয়েকগুন বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে।

সরেজমিনে দৌলতখান উপজেলার পাচঁটি ইউনিয়নের রবি শস্যের ক্ষেতে গিয়ে দেখা যায়, কোথায় কোথায় প্রবল বর্ষণের কারণে ডুবে আছে ধানসহ রবি শস্য এতে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে একাধিক চাষী। উপজেলার সৈয়দপুর ইউনিয়নের কৃষক কবির, শরিফ, শফু ফরাজীসহ বেশ কয়েকজন চাষী জানান, শত শত একর জমিতে ধানসহ রবি শস্যের ফসল ফলাতে লাখ লাখ টাকা খরচ হয়েছে আমাদের। গত তিন দিনের টানা বৃষ্টিতে আমাদের ক্ষেতের ধান, ডাল, মুলা, লাল সাক, লাউ, কুমরা, ধনে পাতা, সিম, শশা, ফুলকপি, বাধা কপিসহ সকল ধরনের রবি শস্যে ব্যাপক নষ্ট হয়ে গেছে। এতে কৃষকরা আর্থিক ভাবে লাখ লাখ টাকা লোকসান গুনতে হবে ।

তাদের ভাষ্যমতে গেছে বছররের টানা বৃষ্টিতে ফলন ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্থ হওয়ায় এখনও তা পুষিয়ে উঠা সম্ভব হয়নি। এতে হতাশায় রয়েছে জেলার কৃষকদের পরিবাররা। সরকারি সহযোগিতা না পেলে এ ক্ষতি কাটিয়ে ওঠা সম্ভব নয় বলে জানান চাষীরা। এবিষয়ে ভোলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক মো. রাশেদ হাসনাত জানান, টানা বৃষ্টিতে কৃষকের ফসল আক্রান্ত হয়েছে তবে ক্ষতি হয়েছে তা এখনি বলা যাচ্ছে না। আমরা কৃষকদের পানি সেচ দিতে পরামর্শ দিয়েছি। এছাড়াও সরকারি সহযোগিতা পেলে ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকদের মাঝে তা বিতরণ করা হবে।

Facebook Comments