ইলিশ প্রজননে ২২ দিন ইলিশ শিকার বন্ধ থাকায় নীরব-নিস্তব্ধ উপকূলীয় মৎস্যবন্দর আবার সরব হয়ে উঠেছে। দীর্ঘ ১৯ দিন অলস সময় কাটিয়ে আবারো ইলিশ ধরতে প্রস্তুত হচ্ছেন ভোলার জেলেরা। আর মাত্র ৩ দিন পরেই নদীতে ইলিশ শিকারে যাবেন জেলেরা।

আর তাই বসে থাকার সময় নেই তাদের। মাছ শিকারে যাওয়ার আগেই নৌকা ও জাল প্রস্তুত করছেন জেলেরা। কেউ নৌকা মেরামত করছেন, কেউবা আবার নতুন করে নৌকা তৈরি করছেন। সংকট কাটিয়ে ঘুরে দাঁড়াতে এমন প্রস্তুতি জেলেদের। দিন যত ঘনিয়ে আসছে ঠিক ততই যেন ব্যস্ততা বাড়ছে তাদের।

ভোলার ইলিশা ঘাট সহ নৌকা প্রস্তুতের এমন চিত্র দেখা যায় তুলাতলী, ভোলর খাল, ইলিশা বিশ্বরোডসহ বেশীরভাগ এলাকায়। নদীর কোল ঘেঁষে বাঁধের ওপর রাখা হয়েছে সারি সারি নৌকা ও ইঞ্জিনচালিত ট্রলার। নৌকা বা ট্রলার মেরামতের কাজ করছেন জেলেরা।

ইলিশের প্রধান প্রজনন মৌসূমে ১৪ অক্টোবর থেকে ৪ নভেম্বর ২২ দিন ইলিশ ধরায় নিষেধাজ্ঞা জারি করে সরকার। এতে বেকার হয়ে পড়েছেন ভোলা জেলার দুই লাখের অধিক জেলে। ৪ নভেম্বর থেকে ফের মাছ ধরা শুরু হবে নদীতে। সেই দিনটিকে সামনে রেখে আগে থেকেই প্রস্তুতি নিচ্ছেন জেলেরা।

মেঘনা পাড়ে ব্যস্ততার মধ্যে দিন পার করছেন তারা। আলম ফিটার ও জাকিরসহ কয়েকজন জেলে জানান, এখন নদীতে মাছ ধরা বন্ধ, নৌকা-ট্রলার নিয়ে নদীতে যাওয়া বন্ধ রয়েছে। সামনে আসছে মাছ ধরার সময়, তাই নৌকা মেরামত করছেন। আগে থেকে নৌকা তৈরি করতে না পারলে তখন সময় পাওয়া যাবে না। মাছ শিকারে যাওয়ার জন্য নৌকা মেরামত ও রঙ দেওয়ার কাজ নিয়ে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছিলেন জেলেরা।

তারা বলেন, এ বছর ভরা মৌসুমে তেমন মাছ ধরা পড়েনি। আশা করি ইলিশ নিষেধাজ্ঞার পর ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশ ধরা পড়বে। তখন মাছ ধরেই ঘুরে দাঁড়াতে পারবো। ভোলা ক্ষুদ্র মৎস্যজীবী জেলে সমিতির সভাপতি মোঃ এরশাদ আলী বলেন, জেলেদের দিন কষ্টে কাটছে, তবুও তারা নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে নদীতে মাছ শিকারে যায়নি।

এখন জেলেদের কষ্টের দিন শেষ হতে যাচ্ছে, তারা এখন মাছ ধরার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। জাল নৌকা, ইঞ্জিন মেরামত করার কাজ নিয়ে ব্যস্ত তারা। ইলিশ শিকার করে ঘুরে দাড়াতে পারবেন সে ব্যাপারেও আশাবাদি তারা। ভোলার সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামান জানান, এবার ইলিশ রক্ষা অভিযান শতভাগ সফল হয়েছে।

এতে আমাদের ইলিশ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হবে। এ বছর ইলিশ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ছিলো ১ লাখ ৬৫ হাজার মেট্রিক টন। তিনি আরো বলেন, ‘২২ দিনের ইলিশ নিষেধাজ্ঞার সময় জেলে পুনর্বাসনের জন্য বরাদ্দকৃত জাল বিতরণ শেষ হয়েছে। ৪ নভেম্বর থেকে জেলেরা মাছ শিকারে যেতে পারবে।

Leave a comment